পত্রিকা: 'সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতে বৃদ্ধি নিয়ে সংশয়'

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে সংশয়। সফটওয়্যার খাতের প্রাথমিক স্তরের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে দক্ষ এআই টুলস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শিগগিরই বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ। ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের সংবাদপত্রগুলোতে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
সমকালের শিরোনাম 'সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতে বৃদ্ধি নিয়ে সংশয়'।
খবরে বলা হচ্ছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। নতুন পে স্কেল শুধু সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়াবে, কিন্তু তা দেশের পুরো শ্রমবাজারের মজুরি কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে। কারণ এতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কিন্তু জ্বালানি সংকট, উৎপাদন, বিনিয়োগে স্থবিরতাসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের পক্ষে বেতন বাড়ানো কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়। তার প্রভাব নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিপিডির করা গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার পর বেসরকারি খাতের উচ্চ বেতনভোগীদের একটি অংশ নিজেদের বেতন সমন্বয় করতে পেরেছিল।
কিন্তু কম বেতন পাওয়া কর্মীরা সেই সুযোগ পাননি। ফলে সরকারি-বেসরকারি কর্মীদের বেতন ব্যবধানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ভেতরেও বৈষম্যের চাপ তৈরি হয়।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে সব ভাতা কার্যকর হলে বছরে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের অর্ধেক।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
নিউ এইজের শিরোনাম 'Super-efficient AI tools gobble up entry-level software jobs' অর্থাৎ ' সফটওয়্যার খাতের প্রাথমিক স্তরের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে দক্ষ এআই টুলস।'
বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পে নতুন কর্মী নিয়োগের হার কমে আসছে। এর কারণ কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এছাড়া কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।
বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এর গতি ও নির্ভুলতার কারণে প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা কমে গেছে। ফলে কোনো কোনো কোম্পানিতে নতুন কর্মী নিয়োগের সংখ্যা অর্ধেকে বা তারও কমে নেমে এসেছে।
ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে গত এক বছরে প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মী নিয়োগ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার শিল্পের কাজের ধরন বদলে দিয়েছে। আগে যেসব কাজ সাধারণত সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা করতেন, এখন তার একটি বড় অংশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
টাইগার আইটি নামের আরেকটি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি। কোম্পানিটির পরিচালক এএইচএম রাশেদ সরওয়ার জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মী নিয়োগ প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'Shahe Alam's family firms land at least Tk 71cr in govt contracts' অর্থাৎ 'শাহ আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান অন্তত ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজের চুক্তি পেয়েছে'।
খবরে বলা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলমের শপথের দুই মাস পর ২০২৬ সালের ১২ই এপ্রিল 'রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড'-কে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কাজ দেয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) । এর ঠিক আট দিন পর ২০শে এপ্রিল চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি সংক্রান্ত নথিপত্রে দেখা গেছে, বগুড়াভিত্তিক কোম্পানিটির শতভাগ শেয়ারের মালিক যৌথভাবে শাহে আলম ও তাঁর ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।
এই চুক্তির সাথে শাহে আলমের সংশ্লিষ্টতা তাঁর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগের ঘটনা। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি এই দরপত্রটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় শাহে আলম বিসিকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের দোসরা অক্টোবর বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহে আলমকে বিসিকের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চুক্তি সংক্রান্ত নথিপত্র থেকে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে 'রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস' এবং 'মির সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং'—প্রতিষ্ঠান দুটি বিসিক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ৭১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অন্তত ১২টি কাজ বা চুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর ছেলে প্রতিষ্ঠান দুটির শতভাগ মালিক।

'নতুন মাত্রায় ঢাকা ও ওয়াশিংটন সম্পর্ক' নয়াদিগন্তের শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শিগগিরই বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
একই সাথে বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না এবং তিনি বিষয়টি ভুলবেন না।
৩১শে অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে তার নেতৃত্বে দেশের 'খুব উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ' দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসাও জানান তিনি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি আসে বৈঠক প্রসঙ্গে- ট্রাম্প বলেন, 'খুব বেশি দূরের ভবিষ্যতে' তিনি তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন।
এ চিঠিকে কেবল সৌজন্যবার্তা হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে বোয়িং ক্রয়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য কাঠামো, রোহিঙ্গা সঙ্কট, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব- সবকিছুকে একসাথে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের বার্তাটি ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে।

'সরকার ও সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে উভয়ই' আজকের পত্রিকার শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন - ভাতা একলাফে বেড়ে যাচ্ছে এক শ থেকে প্রায় দেড় শ শতাংশ । নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হলেও বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপে পড়বে সরকার ।
বাড়তি খরচ মেটাতে রাজস্ব আয় বাড়ানো না গেলে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে । আবার সমাজের একটি অংশের এই বাড়তি উপার্জন মূল্যস্ফীতি ঘটিয়ে বাকি অংশকে চাপে ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা ।
তাঁদের মতে, বেড়ে যেতে পারে সেবা ও পণ্যমূল্য । তখন বাজারে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে মানুষকে । কষ্টকর হয়ে যাবে তাদের জীবন নির্বাহ ।
সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতনকাঠামো দেওয়া হলেও এবার তা হলো প্রায় এক যুগ পর। মন্ত্রিসভা গত সোমবার নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে।
সে অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে । মোট চার ধাপে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে । সরকারি কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন দিতে বছরে ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হলেও সেই টাকা কোথা থেকে আসবে , সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড . জাহিদ হোসেন । তিনি বলেন , টাকা ছাপিয়ে ব্যয় করা হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে ।

'লাখ কোটি টাকার খোঁজে সরকার' কালের কণ্ঠের শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, অবশেষে নতুন পে স্কেল অনুমোদন দিল সরকার। এখন চ্যালেঞ্জ অর্থসংস্থানের।
মূল্যস্ফীতির কঠিন সময়ে এটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তি হয়ে এলেও রাষ্ট্রের সামনে তৈরি হয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক দায়। নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কিভাবে সরকার প্রতিবছর এই বিপুল অঙ্কের টাকার সংস্থান করবে? কারণ ঢাকার মেট্রো রেল-৬ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের এক বছরের অতিরিক্ত ব্যয় একটি এমআরটি-৬ প্রকল্পের ব্যয়ের তিন গুণেরও বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাই শুধু বেতনকাঠামো পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি এখন সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, ঋণনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে সরকারকে মূলত তিনটি পথের মধ্যে ভারসাম্য করতে হবে—রাজস্ব বাড়ানো, অন্য খাতের ব্যয় কমানো এবং ঋণ নেওয়া। কিন্তু তিন পথের প্রতিটিতেই রয়েছে ঝুঁকি।

'মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ' মানজমিনের শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। এতে চাকরিজীবীদের স্বস্তি দিলেও সামষ্টিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের অর্থায়নে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তাদের মতে, বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম না টেনে পে-স্কেল ঘোষণায় পণ্য ও সেবা খাতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে এর বেশি প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তারা আরও বলেছেন, সরকারের আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে অর্থের জোগান দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে পে-স্কেল। এতে অর্থের জোগানে সমস্যা হবে না।
এ বিষয়ে নতুন বেতন কাঠামোকে সাধুবাদ জানিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন এই বেতন কাঠামো আরও আগে হওয়া দরকার ছিল। তবে এটার জন্য বেসরকারি খাতে এক ধরনের চাপ তৈরি হবে।

'মালয়েশিয়া চক্র এবার ভিন্ন কৌশলে তৎপর' প্রথম আলোর শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, ২০২২ সালে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স পাওয়া ভালুকা ওভারসিজ গত ২৩শে আগস্ট পর্যন্ত ২৩৫ জন কর্মী পাঠানোর ছাড়পত্র নিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার কোনো কর্মী নেই। অথচ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নির্বাচিত ২৫টি এজেন্সির তালিকায় আছে এই প্রতিষ্ঠান।
ভালুকা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু সোহাগ খান প্রথম আলোকে বলেন, আগে মালয়েশিয়ায় এক হাজারের বেশি কর্মী তিনি পাঠিয়েছেন বিভিন্ন এজেন্সির নামে। একইভাবে সৌদি আরবেও পাঠিয়েছেন। এবার সরাসরি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেয়েছেন। মালয়েশিয়া থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর জন্য কাউকে কোনো টাকা দিতে হয়নি।
ভালুকা ওভারসিজসহ মোট ২৫টি এজেন্সি এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার কয়েকজন সদস্য বলছেন, এবার আগের এজেন্সিগুলোর নাম নেই। আগের মতো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠানের নামও নেই সরাসরি।
তবে অপরিচিত এজেন্সির আড়ালে আছে চক্র (সিন্ডিকেট) তৈরির পুরোনো হোতারাই। এবার ভিন্ন কৌশলে চক্র তৈরি করেছে তারা। ফলে এবার মালয়েশিয়া যেতে ৬-৭ লাখ টাকা খরচ করতে হতে পারে কর্মীদের।
আগেরবার প্রত্যেক কর্মীর গড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভেরিটে ইনকরপোরেটেডসহ পাঁচটি সংস্থার এক গবেষণায়।

'দেশে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক' বণিক বার্তার শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, খাতভিত্তিক সংকটের সঙ্গে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতেও একই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাভার-ধামরাইয়ে দিনের বড় সময় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্য থাকছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতিও রয়েছে।
দেশে উৎপাদনমুখী বৃহৎ শিল্প খাতের সংকট এখন বহুমাত্রিক। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল কয়েক বছর ধরেই। অতি সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে।
কোথাও বিক্রি ও ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে আনা হচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাংক ঋণের চাপ উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ থেকে দূরে রাখছে। জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ধরে রাখতে বাড়ছে ব্যয়।
এর সঙ্গে ডলার সংকট, দুর্বল চাহিদা ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট যুক্ত হয়ে শিল্প খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর মেজর ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস: মান্থলি আপডেট প্রতিবেদনের শিল্প উৎপাদন সূচক বা আইআইপি বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়কালে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক পরিবর্তন হয়ে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশে নেমেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্নমুখী সংকটে দেশে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন সূচক প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক ধারায় গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির পরিবর্তন ছিল ইতিবাচক ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।









