কৈলাস-মানস সরোবর: শত শত বছর ধরে যেখানে তীর্থযাত্রায় যান চার ধর্মের মানুষ

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে চার হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় নীল জলরাশির এক হ্রদ মানস সরোবর। এর পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে কৈলাস পর্বত। বছরের বড় একটা সময় তুষার আর বরফে ঢাকা থাকে পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম এই জায়গাটি।
দুর্গম উঁচু পাহাড়ি পথ, সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা, চরম আবহাওয়া, অক্সিজেনের স্বল্পতাসহ নানা কারণে কৈলাস-মানস সরোবরে পৌঁছানো অতটা সহজ নয়।
তারপরও শত শত বছর ধরে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে যান এই অঞ্চলে। তাদের কেউ কৈলাস পর্বত প্রদক্ষিণ করেন, কেউ যান কেবল মানস সরোবরের তীরে।
কারও কারও উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা হলেও বেশিরভাগ মানুষই যান ধর্মীয় কারণে। এই স্থানটি হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও তিব্বতের প্রাচীন বন ধর্মের অনুসারীদের কাছে পবিত্র।
যদিও কৈলাস নিয়ে এই চার ধর্মের বিশ্বাসের গল্প এক নয়। কোনো ধর্মে কৈলাস মানে দেবতার আবাস, কারও কাছে এটি আবার আধ্যাত্মিক সাধনার পবিত্র ভূমি।
ওই অঞ্চলে যারা তীর্থযাত্রার উদ্দেশে যান, তারা কেউ কৈলাসের চূড়ায় আরোহণ করেন না। বরং, পর্বতটির চারপাশে প্রদক্ষিণ করেন। তিব্বতি ঐতিহ্যে একে বলা হয় 'কোরা'।
তবে কৈলাস প্রদক্ষিণের ক্ষেত্রে তারা নিজ নিজ ধর্মের পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
এদিকে, অনেকে আবার মানস সরোবরের পানিকে পবিত্র মনে করেন। বাংলায় মানস সরোবর নামে পরিচিত এই হ্রদটি ইংরেজিতে ও স্থানীয় ভাষায় মান সরোবর বলে ডাকা হয়।
সম্প্রতি ওই জায়গাটিতে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার সময় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হয়েছেন অনেকে যাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ফলে আবারো এটি আলোচনায় উঠে এসেছে।
কিন্তু কৈলাস ও মানস সরোবরের অবস্থান ঠিক কোথায়? কেন এতগুলো ধর্মের কাছে একই জায়গা পবিত্র হয়ে উঠলো? আর আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও সেখানে পৌঁছানো এত কঠিন কেন?
End of বিবিসি বাংলা'র আরও খবর:

ছবির উৎস, Getty Images
কৈলাস ও মানস সরোবর কোথায়?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর দু'টিই তিব্বতে অবস্থিত, যা চীনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
তবে অঞ্চলটি একইসাথে আবার নেপাল ও ভারতের সীমান্তের খুবই কাছাকাছি।
কৈলাস পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ছয় হাজার ৬৩৮ মিটার বা ২১ হাজার ৭৭৮ ফুট।। অর্থাৎ, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টের চেয়ে কৈলাস দুই হাজার মিটারেরও বেশি নিচু।
কৈলাসের কাছেই, দক্ষিণে হলো মানস সরোবর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চার হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতায় থাকা একটি স্বাদু পানির হ্রদ এটি, যা এশিয়ার উচ্চতম স্বাদু পানির হ্রদগুলোর একটি।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মানস সরোবর আয়তন প্রায় ৪১২ বর্গকিলোমিটার এবং গভীরতা প্রায় ৪৬ মিটার। হ্রদটিতে প্রায় দুই হাজার কোটি ঘনমিটার পানি রয়েছে।
শীতকালে মানস সরোবরের পানি জমে বরফ হয়ে যায়।
মানস সরোবরের পাশেই রয়েছে রাক্ষসতাল বা লানাগ-তসো নামে আরেকটি হ্রদ। মানস সরোবরের পানি স্বাদু হলেও রাক্ষসতালের পানি লবণাক্ত।
ইউনেস্কোর তথ্যে মানস সরোবর, রাক্ষসতাল এবং কৈলাসকে একই বৃহত্তর 'স্যাকরেড মাউন্টেনস অ্যান্ড লেকস' অঞ্চলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইউনেস্কো বলছে, এখান থেকেই এশিয়ার চারটি বড় নদীর উৎপত্তি হয়েছে। সিন্ধু, শতদ্রু, ব্রহ্মপুত্র এবং কর্ণালী নদীর উৎস এখান থেকে।
দুর্গম এই পাহাড় ও হ্রদ অবশ্য শুধু ভৌগোলিক কারণেই পরিচিত নয়। শত শত বছর ধরে কৈলাস ও মানস সরোবরকে কেন্দ্র করে তীর্থযাত্রার ঐতিহ্য রয়েছে।
হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মের অনুসারীদের কাছে এই অঞ্চলের আলাদা ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
চার ধর্মের কাছে কেন পবিত্র?
ইউনেস্কো বলছে, এই অঞ্চলে ধর্মীয় উপাসনার ইতিহাস প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো।
হিন্দু ধর্মে কৈলাসকে দেবতা শিব ও দেবী পার্বতীর আবাসস্থল হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। হিন্দু পুরাণ ও ধর্মীয় সাহিত্যেও কৈলাসের উল্লেখ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেন, "শিব বৈদিকযুগ থেকেই উপাসিত। ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলে কৈলাস পর্বতের স্বর্ণশিখরে বসবাসকারী দেবতা শিবের উল্লেখ আছে। হিন্দুদের পঞ্চমতের সবাই এটা বিশ্বাস করে। এদের মধ্যে শৈব ও শাক্ত কৈলাসকে পরম গন্তব্য হিসেবে মনে করে।"
ঋগ্বেদের স্তোত্রগুলো (দেব-দেবী বা শক্তির প্রশংসা বর্ণনা করে রচিত পদ্য, শ্লোক বা স্তব) সাধারণভাবে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৫০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত। অর্থাৎ, আজ থেকে প্রায় তিন হাজার দু'শো থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে।
কৈলাস ও শিবের সম্পর্ক বোঝাতে তিনি ঋগ্বেদ সংহিতার আশ্বলায়ন শাখার দু'টি মন্ত্রের কথাও উল্লেখ করেন।
"কৈলাশশিখরাভাসং হিমবদ্ গিরিসংস্থিতম্।
নীলকন্ঠং ত্র্যক্ষং চ তন্মে মনঃ শিবসঙ্কল্পমস্তু।।"
"কৈলাশশিখরে রম্যে শঙ্করস্য শুভে গৃহে।
দেবতাস্তত্র মোদন্তি তন্মে মনঃ শিবসঙ্কল্পমস্তু।।"
এর অর্থ হলো-
"কৈলাশ পর্বতের স্বর্ণশিখরের মতো জ্যোতির্ময়, হিমগিরিতে সংস্থিত, নীলকণ্ঠ ত্রিনেত্র রূপ শিবে আমার মন সংযুক্ত হোক।
রমনীয় কৈলাশ পর্বতের শুভ গৃহে বা শিবের নিবাসে দেবতারা সদা আনন্দে বিরাজ করেন, সেই আমার মন শিবসঙ্কল্পময় বা শিবের সঙ্গে সংযুক্ত হোক।"
কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, "মন্ত্রের মাঝেই কৈলাস শব্দটি আছে। ঋগ্বেদের যুগ থেকে যদি স্থানটি এতটা পবিত্র বিষয় হয়, তাহলে সেই পরম্পরাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।"
অন্যদিকে, মানস সরোবরও হিন্দুদের কাছে পবিত্র হ্রদ। তারা মানস সরোবরের তীরে প্রার্থনা ও পূজা করেন এবং হ্রদের পানিকে পবিত্র মনে করে তা সংগ্রহ করেন।
ঐতিহ্যগতভাবে এই হ্রদে স্নানেরও প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, মানস সরোবরে স্নান করলে পাপ থেকে মুক্তি ও আত্মিক শুদ্ধি লাভ করা যায়। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ পরিবেশ দূষণ রোধে সরাসরি সেখানে পানিতে নেমে স্নানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার সরকারি গাইডেও মানস সরোবরে ধর্মীয় আচার ও পবিত্রতার এই বিশ্বাসের উল্লেখ রয়েছে।
ইউনেস্কোর নথি অনুযায়ী, কৈলাস পর্বতের চারদিকে চারটি বড় গোম্পা বা বৌদ্ধ মঠ রয়েছে। আর মানস সরোবরের চারদিকে আটটি মঠ রয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
বৌদ্ধদের কাছেও কৈলাস অত্যন্ত পবিত্র। তিব্বতি ভাষায় পর্বতটি 'কাং রিনপোচে' নামে পরিচিত, যার অর্থ অনেকটা 'তুষারের মূল্যবান রত্ন'।
হিমালয় অঞ্চলের শিল্প ও ধর্মীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের রুবিন মিউজিয়াম অব হিমালয়ান আর্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, বৌদ্ধদের একটি অংশ বিশ্বাস করেন, কৈলাসই পৌরাণিক মেরু পর্বত বা মহাবিশ্বের কেন্দ্র।
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারে চীনের জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্ট বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা মানস সরোবরের তীরে সাধনা ও ধর্মীয় আচারও পালন করেছেন।
বৌদ্ধদের কাছে কৈলাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কুশল বরণ চক্রবর্তী এও বলেন, "ভুটান, চীন, তিব্বত, ভারতের সিকিম ও দার্জিলিং-এ, কাশ্মীরের লাদাখে, মঙ্গোলিয়ার মহাযানপন্থি বৌদ্ধরা বিভিন্ন দেব-দেবতার উপাসনা করে। বাংলায়ও পালযুগে মহাযানপন্থি বৌদ্ধরা ছিল। সেজন্য বাংলার জাদুঘরগুলোতে বৌদ্ধদের প্রচুর দেব-দেবতার মূর্তি আছে। যেমন- মারিচী, হিড়ম্ব, বজ্রস্বত্ব। মহাযানপন্থিদের কাছে ভৈরব খুব গুরুত্বপূর্ণ, শিবেরই একটা রূপ ভৈরব।"
বন ধর্মে কৈলাসের গুরুত্ব আরও পুরোনো তিব্বতি ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। বন ধর্মের অনুসারীদের কাছে কৈলাস তাদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ও উপাসনার অন্যতম পবিত্র স্থান।
কৈলাস-মানস সরোবর অঞ্চলকে ঘিরে বন ধর্ম ও তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। কথিত আছে, একাদশ শতকে মানস সরোবরের তীরে দুই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বড় ধরনের একটি প্রতিযোগিতা হয়েছিল। এতে তিব্বতি বৌদ্ধরা জয়ী হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
হিন্দু ও বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীরা সাধারণত ঘড়ির কাঁটার দিকে কৈলাস প্রদক্ষিণ করেন। হিন্দু ধর্মে এই প্রদক্ষিণকে পরিক্রমা বলা হয়। আর তিব্বতি বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই প্রদক্ষিণকে 'কোরা' বলা হয়। কোনো কোনো তিব্বতি তীর্থযাত্রী পুরো পথ সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে করতে সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে, বন ও জৈন অনুসারীরা প্রদক্ষিণ করেন ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে, এমনটাই বলা আছে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় জেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটে।
পুরো প্রদক্ষিণের পথটি প্রায় ৫২ কিলোমিটার। এক দিনে পায়ে হেঁটে এই পথ পাড়ি দেওয়া সহজ নয়। সাধারণত মানুষ তিন দিনে এই পথ শেষ করেন। এই যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের প্রচণ্ড ঠান্ডা, হঠাৎ বদলে যাওয়া আবহাওয়া, ভূমিধস ও দুর্গম পথসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়।
জৈন ধর্মেও কৈলাসকে পবিত্র স্থান হিসেবে দেখা হয়। জৈনদের বিশ্বাস, তাদের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভদেব এই স্থানে নির্বাণ লাভ লাভ করেছিলেন। ইউনেস্কোর নথিতেও এটি উল্লেখ আছে।
এ প্রসঙ্গে কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, "ভগবান ঋষভদেব যেমন জৈনদের আদি তীর্থঙ্কর, উনি সনাতন ধর্মে (ভাগবত পুরাণ) বিষ্ণুরও অবতার। আবার, ২৩-তম জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের যে শক্তি, তিনি হলেন পদ্মাবতী। এই পদ্মাবতী-ই হলেন মনসা। বাংলায় ঘরে ঘরে যার পূজা হয়।"
তাই, ভারত বর্ষে উৎপন্ন ধর্মগুলোকে আলাদা করা কঠিন এবং আগে এতটা বিভাজন ছিল না। সে কারণেই এই স্থানটি একাধিক ধর্মের অনুসারীদের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মত তার।

ছবির উৎস, Getty Images
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা কঠিন কেন?
তীর্থযাত্রীরা কয়েকটি পথ দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবরে যেতে পারেন।
একটি হলো ভারতের উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, অন্যটি সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে। এর বাইরে আরেকটি পরিচিত রুট হলো কাঠমান্ডু (নেপাল)।
তবে ভারতের লিপুলেখ ও নাথু লা পাস দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় শুধু বৈধ ভারতীয় পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকরা অংশ নিতে পারেন, বিদেশি নাগরিকরা নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি বছর জুন থেকে অগাস্ট বা সেপ্টেম্বরের মাঝে এই আয়োজন করে।
লিপুলেখ পাস দিয়ে যেতে হলে অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হয়। আর নাথু লা পাস দিয়ে গেলে তুলনামূলক কম হাঁটতে হয়। তবে এই পথ দিয়ে সময় লাগে ২০ দিনেরও বেশি।
বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিদেশি তীর্থযাত্রীরা সাধারণত নেপাল হয়ে তিব্বতে প্রবেশ করেন।
এক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীদের চীনের ভিসার পাশাপাশি তিব্বতে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হয় এবং অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে যাত্রার ব্যবস্থা করতে হয়।
আবার, চীনের ভেতর থেকে লাসা হয়েও কৈলাস-মানস সরোবর সরোবর যেতে পারেন বিদেশিরা। তবে তখনও তাদের তিব্বত ভ্রমণের প্রয়োজনীয় বিশেষ অনুমতি লাগে।
বিবিসি সংবাদদাতা লরা বিকার জানিয়েছেন, তীর্থযাত্রীরা যে কৈলাশ পর্বতের দিকে যান তার জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র লাগে। নেপালের দিক থেকেও যে হাজারো মানুষ তীর্থযাত্রায় যান তাতেও একটি স্বীকৃত কোম্পানির মাধ্যমে চারটি ভিন্ন অনুমতিপত্র লাগে।
তিব্বত অঞ্চলটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। চীন ১৯৫০ সালে তিব্বতকে নিজেদের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করে নেয় এবং তখন থেকেই এটিকে তারা নিয়ন্ত্রণ করছে।








