সামনে দুই মাস ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া নিয়ে কী পূর্বাভাস দিচ্ছেন গবেষকরা

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর বাসার কাছের কোনো হাসপাতালেই সিট পাননি মিরপুরের বাসিন্দা ও পেশায় দন্তচিকিৎসক সাদিয়া নওরিন।
জ্বর আসার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি টেস্ট করিয়েছিলেন এবং তাতে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর তিনি বাসায়ই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
"আমি সকাল-বিকাল আমার প্লাটিলেট, প্রেশার চেক করতাম। যেদিন দেখলাম যে প্লাটিলেট ৫০ হাজারে নেমে এসেছে, সেদিন হাসপাতালে যাই। কিন্তু বাসার আশেপাশে কোথাও আমি সিট পাইনি। টাকা দিয়েও সিট পাওয়া যায়নি। পরে একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে সিট পাই, কিন্তু সেটার পরিবেশ এত বাজে ছিল যে রাত দুইটায় দূরে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছে," বলছিলেন তিনি।
সম্প্রতি ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বড়ছে এবং হাসপাতালগুলো সেই রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে একশো ছাড়িয়েছে। বাড়ছে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩২৪ জন, যেটি চলতি বছরে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হিসাবে সর্বোচ্চ।
আর, এ পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ।
যদিও অভিযোগ আছে যে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি, যেগুলো সরকারি হিসেবে আসছে না।
এর আগে অগাস্টের শুরু থেকেই দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে দেখা যায়।
এখন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শতাধিক মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আসলে কতটা উদ্বেগজনক?
সামনে কি ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে?

ছবির উৎস, Getty Images
সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
চলতি বছর শুধু অগাস্টেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাড়ে ২০ হাজার মানুষ। আর সেপ্টেম্বর শুরু হতে না হতেই সংখ্যাটি প্রায় দেড় হাজার ছুঁই ছুঁই।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ পুরো বিভাগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দশ হাজারের কাছাকাছি।
এরপরেই বরিশাল, সংখ্যাটি প্রায় ছয় হাজার। চট্টগ্রামে এটি সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুতেও ঢাকা এগিয়ে। বুধবার পর্যন্ত মোট ১০৭ মৃত্যুর ৩৬ জনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে।
আর, ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অগাস্টে ৪৩ জন, এর আগে জুলাইতে ৩৬ জন। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুর দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন।
তাদের দু'জন-ই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর মাঝে গাজীপুর জেলা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, এরপরেই নারায়ণগঞ্জ। এই দুই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের আশেপাশে।
এর বাইরে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ঝালকাঠী, পিরোজপুর জেলাগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। জেলাগুলোর কোথাও কোথাও আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের কাছেকাছি, কোথাও আবার প্রায় দেড় বা দুই হাজার।

ছবির উৎস, Getty Images
সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে?
বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা পরবর্তী সময়কে, অর্থাৎ অগাস্ট থেকে অক্টোবরকে ডেঙ্গুর 'পিক সিজন' বা ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুম বলা হয়।
অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও এই সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হবে।
"এখন পর্যন্ত সারাদেশে সারাবছরে ৩৭ হাজার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এবার এক মাসে, মানে শুধু সেপ্টেম্বরেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হতে পারে" বলে ধারণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।
আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে। শুধু তাই নয়, অক্টোবরেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কাছাকাছি থাকবে বলেও জানান এই অধ্যাপক।
কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ে এই আগাম পূর্বাভাস তিনি কীভাবে দিচ্ছেন?
জানতে চাইলে অধ্যাপক বাশার বলেন, "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিদিন মশা, লার্ভা ইত্যাদির ওপর একটি সার্ভেইল্যান্স করি আমরা। আমরা ট্র্যাপও ব্যবহার করি। এই সার্ভেইল্যান্সে আমরা দেখেছি, এডিস মশার ঘনত্ব ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য উপযোগী মাত্রায় আছে।"
"এডিস মশার ঘনত্ব, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা– এই কয়েকটি নিয়ে আমরা ফোরকাস্টিং তৈরি করি। ফোরকাস্টিং-এ এটা স্পষ্ট যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসটা খারাপ যাবে বাংলাদেশের জন্য," যোগ করেন অধ্যাপক কবিরুল বাশার।
এদিকে, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, "ডেঙ্গু নিয়ে এখনই আমরা উদ্বেগজনক অবস্থায় আছি। দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, হামের কারণে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সব মিলিয়ে এটি আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি নয়, বরং বেশ চাপের।"

ছবির উৎস, Getty Images
আক্রান্তে পুরুষ এগিয়ে, ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি নারীদের
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৭ হাজারের বেশি রোগীর ৬২ শতাংশ-ই পুরুষ, নারী ৩৮ শতাংশ।
মৃত্যুর ক্ষেত্রে আবার পুরুষের তুলনায় নারীদের হার বেশি। এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী, পুরুষের মৃত্যুর হার ৪৩ শতাংশের মতো।
এর আগেও দেখা গেছে যে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের দিক থেকে পুরুষ এগিয়ে ছিল।
ধারণা করা হয়, বাংলাদেশের নারীদের চেয়ে পুরুষদের শরীরে অনাবৃত অংশ বেশি থাকায় মশা দংশন করার সুযোগ বেশি পায়।
এর বাইরে আরেকটি কারণ হলো, এখনো বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে কম। সেক্ষেত্রে যেহেতু ঘরের কাজে পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ বেশি, তাই নারীদের ঘরের বাইরে বের হতে হয় কম। কিন্তু ঘরে বেশি থাকলেও নারীরাও একইভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে তা হিসেবে আসছে না।
এর আগে জনস্বাস্থ্য ও মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বিবিসি বাংলাকে এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, "কর্মস্থলের কারণে পুরুষরা ঢাকায় আসছে বা শহরে যাচ্ছে এবং টেস্ট করিয়ে দেখছে। কিন্তু নারীরা সেই সুযোগ পাচ্ছেই না।"
তার মতে, "যদি সব ডেঙ্গু রোগী চিহ্নিত করা যেত, তাহলে সংখ্যাটা কাছাকাছি-ই হতো।"

এদিকে, নারীদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, "এর একটি কারণ হতে পারে নারীদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল থাকা। এছাড়া, জ্বর এলেও তারা ভাবেন, দুই-তিন দিন দেখি, এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। আবার হাসপাতালে ভর্তি হলে স্বামী-সন্তানকে কে দেখবে, সেই চিন্তাও থাকে তাদের মাঝে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের অবহেলা রয়েছে।"
উল্লেখ্য, বিশেষজ্ঞরা এও মনে করেন, বাংলাদেশে সাধারণত সরকারি হিসেবে যে পরিমাণ রোগী পাওয়া যায়, তা মূলত মোট আক্রান্তদের খুব কম একটি অংশ।
অধ্যাপক বাশার বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের অন্তত ছয় গুণ বেশি।
তিনি বলেন, "আমরা মূলত হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের তথ্য পাচ্ছি। বাংলাদেশে প্রায় সাত হাজার হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। কিন্তু এই সব হাসপাতাল তো রিপোর্ট করে না। এর বাইরে অনেক রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের তথ্যও এই হিসাবে নেই।"
আইইডিসিআর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকীরও তাই মত। তার ভাষ্য, "সাধারণত খুব বেশি জটিলতা দেখা না দিলে অনেকেই হাসপাতালে আসেন না। তাই, আমরা আসলে 'টিপ অব দ্য আইসবার্গ'টাই দেখতে পাই। এটাকে 'আইসবার্গ ফেনোমেনন' বলা হয়। পানির নিচে আইসবার্গের যে বড় অংশটি থাকে, সেটি আমাদের রিপোর্টের বাইরে থেকে যায়।"

ছবির উৎস, Getty Images
হঠাৎ রোগী বাড়ছে কেন?
বাংলাদেশে বর্ষায় বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে এডিস মশার প্রজননের উপযোগী স্থান বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিতে ঘাটতিও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ।
আইইডিসিআর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, "বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বেড়ে যায়। বাংলাদেশে আমরা আমাদের পরিবেশও সেভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারি না। তবে বর্ষাকে ঠেকানো সম্ভব না হলেও চাইলে মশার বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।"
তার মতে, "ভেক্টর (রোগের বাহক) নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয়। কারণ এটি মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি ছড়ায় না, ছড়ায় মশার মাধ্যমে।"
তিনি জানান, আইইডিসিআর বিভিন্ন সময় এডিসের প্রজননস্থল চিহ্নিত করেছে এবং সরকারকে সেই অনুযায়ী পরামর্শও দিয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষমতা আইইডিসিআরের নেই।
কিন্তু ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ এবং এডিসের প্রজননস্থল সব এলাকায় একরকম নয়। তাই কোনো এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বান্দরবানের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে পানি সংরক্ষণের ড্রাম এবং কাটা বাঁশের কোটরে জমে থাকা পানিতেও এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।
আবার বরগুনায় সুপারি গাছের গোড়া বা কাটা অংশে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা পাওয়া গেছে।
বরগুনার মতো বাংলাদেশের উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় লবণাক্ততাও একটি প্রধান সমস্যা। তাই, সেখানকার মানুষ বছরব্যাপী বৃষ্টির পানি মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করে রাখেন। কিন্তু কোনো পাত্র বা স্থানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার ডিম পাড়া ও লার্ভা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই, প্রতি তিনদিন পর পর পানি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সংরক্ষিত পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব।
ডা. জাকী বলেন, "স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মৌসুম শুরুর আগেই মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।"
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার মনে করেন, বাংলাদেশে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে এবং এখানে 'এভিডেন্স-বেজড, টার্গেট-স্পেসিফিক এডিস মসকুইটো কন্ট্রোল' হয় না। অর্থাৎ, কোন কোন জায়গায় এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে, কী পরিমাণে হচ্ছে এবং ঠিক সেই জায়গাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কী হবে, তা চিহ্নিত করতে হবে।
"আমরা সাধারণভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করছি, কিন্তু এডিস মশা অন্য মশার মতো নয়। এর আচরণ ও প্রজননের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই, শুধু মশাকে লক্ষ্য করে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালালে হবে না, এডিস মশাকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখানেই আমাদের ভুল হচ্ছে।"








