বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক 'রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ', ভারতীয় হাইকমিশনারকে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সচিবালয়ে ভারতের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশের সাথে সাক্ষাৎ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ছবির ক্যাপশান, সচিবালয়ে ভারতের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশের সাথে সাক্ষাৎ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
Published

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা রীভা গাঙ্গুলী দাশ আজ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

রাজধানী ঢাকায় মন্ত্রীর সচিবালয়ের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতটি অনুষ্ঠিত হয় বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বা বাসস জানিয়েছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পাতায়ও এ সংক্রান্ত একটি ছোট সংবাদ প্রকাশ করে বলা হয় যে বৈঠকের সময় রীভা দাশ এবং ওবায়দুল কাদের দু'দেশের সহযোগিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো যখন দু'দেশের গণমাধ্যমেই খবর প্রকাশিত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশ দুটোর সম্পর্কে এক ধরণের শীতলতা দেখা যাচ্ছে।

ভারতের গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছিল, যাতে বলা হয়েছে যে চার মাস ধরে বার বার চেষ্টা চালিয়েও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে পারেননি ভারতের এই রাষ্ট্রদূত।

এসব খবরে এমন বলা হয় যে রীভা গাঙ্গুলী দাশ যেমন দীর্ঘ কয়েক মাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি, তেমনি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতার জন্য দিল্লিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঢাকা কোন নোট পর্যন্ত পাঠায়নি।

এমন অভিযোগও গণমাধ্যমে তোলা হয় যে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনর্নিবাচিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ভারতীয় প্রকল্পের কাজে ধীরগতি চলছে।

আর দু'দেশের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে এই আলোচনা শুরু হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার পর থেকে।

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এখন অধিকতর উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং উন্নয়নমুখী।

"ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং '৭১ এর রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ," মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়।

মিস্টার কাদের বলেন, "দুই দেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধ সময়ে পরিক্রমায় দিন-দিন নবতর মাত্রায় উন্নীত হচ্ছে।"

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদৃঢ় হলে পারস্পরিক উন্নয়ন এবং অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান সহজেই সম্ভব, এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও গণপরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারতীয় ঋণ কর্মসুচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ এগিয়ে নিতে হাইকমিশনারের সহযোগিতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের মন্ত্রী।

সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে যে পোস্ট দেয়া হয়েছে, তাতে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার কথা জানানোর পাশাপাশি হাইকমিশনার মন্ত্রীকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এমন তথ্য দেয়া হয়।

সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও পোস্ট দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এর আগে ২৭শে জুলাই অর্থাৎ গতকালই বাংলাদেশের কাছে ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন হস্তান্তর করে ভারত।

এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাছে ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন হস্তান্তর করে ভারত।
ছবির ক্যাপশান, এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাছে ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন হস্তান্তর করে ভারত

এ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, রেল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী সুরেশ আঙ্গাদি উপস্থিত ছিলেন। আর বাংলাদেশের অনুষ্ঠানে ছিলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর 'পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে রচিত দুই দেশের কালোত্তীর্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গভীরতা'র কথা তুলে ধরেন।

কোভিডের সময়ও দুই দেশের সহযোগিতার গতি হ্রাস না করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন যে দুই দেশের সম্পর্ক খুবই দৃঢ় এবং পারস্পরিক মূল্যবোধ, নীতি ও প্রত্যয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এই সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও উঁচুতে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন মিস্টার মোমেন।