ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগ শুরু

ভারতের ২০ কোটি সংখ্যালঘু মুসলমানকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করার লক্ষ্যেই ঐ আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছবির ক্যাপশান, ভারতের ২০ কোটি সংখ্যালঘু মুসলমানকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করার লক্ষ্যেই ঐ আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
Published

ভারতে জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীকান্ত শর্মা সাংবাদিকদের বলেছেন, রাজ্যের ৮০টি জেলার মধ্যে ২১টি জেলা থেকে তারা ৩২,০০০ ব্যক্তিকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-তে প্রতিবেশী মুসলিম-প্রধান দেশগুলি থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রয়েছে।

এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে, তাতে শুধু উত্তর প্রদেশেই নিহত হয়েছে ৩০ ব্যক্তি।

ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি বলছে, সিএএ মানুষকে নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করবে।

কিন্তু এর সমালোচকেরা বলে থাকেন সে দেশের ২০ কোটি সংখ্যালঘু মুসলমানকে তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্যই 'হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা' কৌশলে ঐ আইনটি ব্যবহার করছে।

সিএএ-এর বিরুদ্ধে পুরো ভারত জড়েই বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু উত্তর প্রদেশে প্রতিবাদ শক্তহাতে দমন করা হয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, সিএএ-এর বিরুদ্ধে পুরো ভারত জড়েই বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু উত্তর প্রদেশে প্রতিবাদ শক্তহাতে দমন করা হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:

উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন দল হচ্ছে বিজেপি। বিপুল সংখ্যক মুসলমানের বাস ঐ রাজ্যে।

এই আইনের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তাতে অনেক মুসলমানই যোগ দিয়েছেন।

এখন অভিযোগ উঠেছে, সরকার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে এসব বিক্ষোভ দমন করছে।

বিক্ষোভে নিহতদের মধ্যে অনেকেই মারা গেছে পুলিশের হাতে।

এসব নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও মি. শর্মা বলছেন, চলতি মাসের গোড়া থেকে রাজ্যে সিএএ কার্যকর হয়েছে এবং এই আইনের আওতায় তারা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে শুরু করেছে।

তিনি বলছেন, এই প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে, এখনও অনেক তথ্য আসছে।

ভবিষ্যতে এ সম্পর্কে আরও জানা যাবে বলে তিনি জানান।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: