প্রত্যাহার করা ৫২টি পণ্য: কালকের মধ্যে দোকান থেকে না সরালে কী ব্যবস্থা?

ডিপার্টমেন্টাল স্টোর
ছবির ক্যাপশান, বাজার থেকে ৫২ টি পণ্য সরিয়ে নিতে বলেছে হাইকোর্ট
Published

বাংলাদেশে বিএসটিআই এর পরীক্ষায় নিম্নমানের বলে প্রমানিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য আজ সংবাদপত্রে একটি নোটিশ দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

১২ই মে ঐ ৫২ ভোগ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ৫২টি পণ্যের মধ্যে বহুল বিক্রিত কয়েকটি ব্রান্ডের লবন, মসলা এবং তেলও রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি এসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া না হয়, তাহলে কী শাস্তির বিধান রয়েছে?

এ মাসের দুই তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিএসটিআই এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয় রমজানকে সামনে রেখে বিএসটিআই বাজার থেকে ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে।

এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্য পরীক্ষার পরে সংস্থাটি দেখেছে এর ৫২টি পণ্যই নিম্নমানের।

এর পর সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হবার পর সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও শংকা তৈরি হয়। এর মধ্যে যারা সুপার শপে বাজার করেন এবং যারা সাধারণ বাজার থেকে পণ্য কেনেন উভয়েই রয়েছেন ।

নিয়মিত বাজার করতে যাওয়া নাজিয়া পারভিন বলছেন, "আমাদের চিন্তা করতে হয় কোনটির মেয়াদ আছে বা নেই, এখন এটাও মাথায় রাখতে হবে কোনটি মানসম্মত আর কোনটি নিম্ন মানের। এটা কি সম্ভব এই ৫২ পণ্যের তালিকা মনে রাখা?"

তানিয়া ফেরদেসি বলেছেন, "সুপারশপে না হয় তবু একজন কাউকে ধরা যায় কৈফিয়ত দেবার জন্য। কিন্তু আমরা যারা নিউমার্কেট বা হাতিরপুল থেকে বাজার করি, আমরা কাকে ধরবো। দোকানদার তো বলে দেয় যে এটা কোম্পানি দিয়েছে!"

এসব পণ্য বাজার থেকে সরাতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে?

বাংলাদেশে বিএসটিআই এর পরীক্ষায় নিম্নমানের বলে প্রমানিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য আজ সংবাদপত্রগুলোতে একটি নোটিশ দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এর আগে ১২ই মে ঐসব ভোগ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার আদেশ দিয়ে হাইকোর্ট ১০ দিন সময় বেধে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সেই প্রেক্ষাপটেই আজকের নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম লস্কর।

নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে তুলে না নিলে অভিযান চালাবে কর্তৃপক্ষ
ছবির ক্যাপশান, নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে তুলে না নিলে অভিযান চালাবে কর্তৃপক্ষ

"আগামীকাল এই সময়সীমা শেষ হবে, এরপর আমরা এগুলো বন্ধে অভিযান শুরু করবো। সনাক্ত করে বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করার ব্যবস্থা করবো আমরা। ইতিমধ্যেই অনেকে আইন মেনে পণ্য প্রত্যাহার করেছেন, যেমন ওয়েল ফুড।"

এই ৫২ পণ্যের উৎপাদন, বিতরণ ও বিপননের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছেন তাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই নিজেদের পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে এখনো কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ঢাকার বাইরের বাজার থেকে নিজেদের পণ্য সরিয়ে নেয়নি বলে অভিযোগ শোনা গেছে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কী বলছে?

বিএসটিআই এর নিম্নমানের পণ্যের তালিকায় এইসিআই গ্রুপের দুইটি পণ্য রয়েছে---এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং এসিআই পিওর ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুড়া।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে ইতিমধ্যেই নিজেদের পণ্য সরিয়ে নেবার ব্যবস্থা করেছে তারা।

এসিআই কনস্যুমারস ব্রান্ডের একজন পরিচালক কামরুল হাসান বলেন,"আমাদের লবনের একটি ব্যাচে সমস্যা ছিল, সেটা আমরা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এক ব্যাচে সাধারণ এক লাখ কেজি পন্য থাকে, এটা ফেব্রুয়ারি মাসের লবন ছিল। লবন খুব 'ফাষ্ট মুভিং' পণ্য, বেশির ভাগ বিক্রি হয়ে গেছে, আমরা বাজারে খুব অল্পই পেয়েছি, যা পেয়েছি তুলে নিয়েছি। আর মসলা আমাদের খুবই কম বিক্রি হয়, সেটাও কমই ছিল।"

পণ্য সরিয়ে না নিলে কী শাস্তি হতে পারে?

কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি যথাসময়ে নিজেদের পণ্য সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাইকারী ও খুচরা বাজার থেকে সেসব পণ্য ধ্বংস করার জন্য অভিযান চালানোর কথা বলছে বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু খাদ্যপণ্যের মান যথাযথ না হলে কিংবা তাতে ভেজাল থাকলে কী শাস্তি হতে পারে কোন উৎপাদকের?

জনস্বার্থে মামলা লড়েন সুপ্রীম কোর্টের এমন একজন আইনজীবি অমিত দাসগুপ্ত এসম্পর্কে বলেন, "বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য আইন আছে ২০১৩ সালের। এর অধীনে খাবারের মান নিম্ন হলে কিংবা খাদ্যে ভেজাল থাকলে, তার জন্য শাস্তির বিধান আছে। ভেজালের জন্য ধরণ অনুযায়ী তিন থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।"

"এছাড়া যথাসময়ে এখনকার হাইকোর্টের নির্দেশণা না মানলে যে আইনানুগ ব্যভস্থার কথা বলা হয়েছে তার এসব আইনের অধীনেই হবে। এছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনেও খাদ্যে ভেজালের শাস্তি হতে পারে, সেখানে মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।"

বাংলাদেশে পণ্যের মান নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগের শেষ নেই। বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ভেজাল-বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু এরপরেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে অনেক সময়ই ক্রেতাদের অভিযোগ করতে শোনা যায়।