এশিয়া কাপ: আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক সাফল্যের নেপথ্যে

ক্রিকেট, এশিয়া কাপ, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, শ্রীলঙ্কার সাথে জয়ের পর আফগানিস্তান দল
Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের সেরা চারটি দল হল- আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত।

শ্রীলঙ্কাকে ৯১ রানের ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুরুতেই সাবেক বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের ছিটকে দেয় আফগানিস্তান।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ক্রিকেটীয় উত্থান

আফগানিস্তানের ক্রিকেটের জন্য চলতি বছরটা দারুণ কিছু। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলা, ২০১৯ সালের ওয়ানডে ফর‍ম্যাটের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে জায়গা করে নেয়া বড় অর্জন।

যদিও আফগানিস্তানের দলটি ইনজামাম উল হক বা লালচাঁদ রাজপুতের মতো কোচের অধীনে খেলেছে। কিন্তু এর আগে কোচরা আফগানিস্তান গিয়ে কোচিং করাতে নিরাপদ বোধ করতেন না।

তাদের মধ্যে একজন অ্যান্ডি মোলস। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক এই কোচ ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তানের কোচের পদে নিয়োগ পান।

তিনি বেশ অবাক হতেন যেভাবে ১৯৭৮ সাল থেকেই বিভিন্ন দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি দেশ ২০০৮ সালে ঠিকভাবে ক্রিকেট খেলা শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সর্বনিম্ন পর্যায়ের ওয়ার্ল্ড লিগ থেকে বিশ্বকাপের মতো আসরে জায়গা করে নেয়।

আরো খবর:

ক্রিকেট, এশিয়া কাপ, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, আফগানিস্তানের একটি ক্রিকেট মাঠে বোমা হামলায় আটজন নিহত হয়

অ্যান্ডি মোলসের মতে যেই দেশে অনেক বেশি ভাঙ্গাগড়ার মধ্য দিয়ে যায় ক্রিকেট সেখানে একটি ঐক্য তৈরির শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আর মোহাম্মদ নবীর মতো ক্রিকেটাররা সে গল্পের রুপকার।

২০১৩ সালে যখন আফগানিস্তান ২০১৫ বিশ্বকাপের জন্য উত্তীর্ণ হয়, কাবুল ও কান্দাহারের পথেঘাটে উৎসব আয়োজিত হয়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

বিশ্বকাপের আগের বছর আফগানিস্তান ২০১৪ এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ৩২ রানে হারায়। সেটা ছিল কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম জয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস মনে করেন, "যখন একটি দেশের নেতিবাচক সংবাদ অনেক বেশি থাকে তারা কোনো একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে মন দেয়, এটা অনেকটা বাংলাদেশের মতোই, বাংলাদেশেও খুব কম ইতিবাচক বিষয়গুলোর মধ্যে একটা ক্রিকেট। এটা আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে আরো বেশি কাজ করে।"

Skip Facebook post

ছবির কপিরাইট

Facebook -এ আরো দেখুনবিবিসি। বাইরের কোন সাইটের তথ্যের জন্য বিবিসি দায়বদ্ধ নয়।

End of Facebook post

মি. নাফিস বলেন, "পাকিস্তান আফগানিস্তানের প্রতিবেশি দেশ। আফগানিস্তানের যুদ্ধ চলাকালীন প্রচুর উদ্বাস্তু বা আশ্রয়হীন মানুষ পাকিস্তানে থেকেছে। তারা ক্রিকেটটা বুঝেছে ভালবেসেছে।"

তিনি যোগ করেন, "রাজনৈতিক অবস্থান বা যে কোনো সংকটকে উতরে সেসব জায়গায় ক্রিকেটের একটা জয় জায়গা করে নিতে পারে। আফগানিস্তান ক্রিকেট দিয়ে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।"

মানসিক শক্তি আফগানিস্তানের ক্রিকেটের একটা বড় দিক বলে মনে করেন শাহরিয়ার নাফিস। তাদের জয়ের আগ্রহ বা কিছু করে দেখানোর আগ্রহটা অনেক বেশি।

ক্রিকেট, এশিয়া কাপ, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, ২০১৯ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জয়ের পর আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল

স্পিনের প্রতিভা

ক্রিকেট, এশিয়া কাপ, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, ওয়ানডেতে ৪৮ ম্যাচ খেলে ১১০ উইকেট নেন রশিদ খান। এখানে তার ইকোনোমি রেট ৩.৯২।

আফগানিস্তানের বড় শক্তি তাদের বোলিং লাইন আপ। মাত্র একটি টেস্ট খেলা আফগানিস্তান শুধু স্পিন আক্রমণ দিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিপক্ষের জন্য।

বিশেষত এক্ষেত্রে রশিদ খানের কথা আলোচনা করা হয়ে থাকে। ২০১৭ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে যোগ দেন রশিদ খান।

নিয়ন্ত্রিত বোলিং, রান রেট কম এবং নিয়মিত উইকেট শিকারি এসব গুণ তাকে আইপিএলের অন্যতম বড় প্রতিভা বানিয়ে তোলে।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে দু বছরে মোট ৩১ ম্যাচে ৩৮টি উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান।

আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খানের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড আরো ভাল। ৩৫ ম্যাচে ৬৪ উইকেট নিয়েছেন এই লেগ স্পিনার। গড় মাত্র ১২.৪০।

ওয়ানডেতে ৪৮ ম্যাচ খেলে ১১০ উইকেট নেন রশিদ খান। এখানে তার ইকোনোমি রেট ৩.৯২।

রশিদ খান এখন বিশ্বের ছয়টি দেশের টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নেন।

রশিদ খানের সাথে যোগ দিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী মুজিব উর রহমান।

মুজিব তার অফস্পিনে ১৯টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৯টি উইকেট নিয়েছেন।

ক্রিকেট, এশিয়া কাপ, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, মুজিব তার অফস্পিনে ১৯টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৯টি উইকেট নিয়েছেন।

আর আফগানিস্তানের অন্যতম বড় তারকা মোহাম্মদ নবী এই স্পিন আক্রমণে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করেন।

মুজিব বা রশিদের মতো রহস্য না থাকলেও নবীর বোলিং মাঝের ওভারগুলোতে বেশ ভাল রান নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৫০ ওভারের খেলা বা ২০ ওভারের খেলায় এই তিন বোলারের স্পেল অনেকটা প্রভাব বিস্তার করে।

দুর্বল দিক: আফগানিস্তানের ব্যাটিং

ক্রিকেট, এশিয়া কাপ, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশান, আফগানিস্তানের ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা মোহাম্মদ নবী

আফগানিস্তান ব্যাটিং দল হিসেবে তেমন ভীতি জাগানিয়া নয়। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ মারকুটে ভূমিকা পালন করেন তবে তেমন ধারাবাহিক নন।

রহমত শাহ, মোহাম্মদ নবী, হাসমতউল্লাহ শহীদির ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে থাকে আফগানিস্তানের ক্রিকেট ভক্তরা।

আফগানিস্তান যে ক্রিকেটীয় পরিকল্পনায় মূলত থাকে প্রতিপক্ষের সামনে মোটামোটি একটা সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে সেটাকে ডিফেন্ড করা।

বাংলাদেশের একজন ক্রিকেট বিশ্লেষক ও নারী দলের ক্রিকেটার সাথিরা জাকির জেসির মতে, "আফগানিস্তানের ক্রিকেট শক্তিটা প্রাকৃতিক। এখানে ক্রিকেটটা অনেকটা পাকিস্তান থেকে অনুপ্রাণিত। ব্যাটিং এ খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও, স্পিন ও পেস বোলিং মিলিয়ে একটা শক্তিশালী লাইন আপ থাকে আফগানিস্তানের।"