খুলনায় জনপ্রিয়তা দেখানোর লড়াইতে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

গণসংযোগ করছেন আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক
ছবির ক্যাপশান, গণসংযোগ করছেন আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের খুলনার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধান দুই দল- আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- যেভাবে তাদের জনপ্রিয়তা দেখানোর লড়াইতে নেমেছে অনেক বিশ্লেষকের মতে তা বিরল।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার কাছে গাজীপুরের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধী বিএনপি মাঠে নেমেছিল তাদের সাধ্যমতো শক্তি নিয়ে। সেই নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় দলটি এখন খুলনার নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনের রাজনৈতিক মূল্য অনেক।

আওয়ামী লীগও পিছিয়ে নেই। তাদের কাছে খুলনার নির্বাচন মর্যাদার লড়াই।

বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান মনে করেন, দুই দলই এখন খুলনার নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের জনপ্রিয়তা দেখানোর লড়াইয়ে মেতেছে।

"স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রভাব কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে খুব একটা পড়ে না। কিন্তু এবার একটু অন্য রকম দেখা যাচ্ছে। কারণ সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে। তো সেখানে কার জনপ্রিয়তা আছে তা দেখানোর জন্য দুই দলই মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবে। আমি মনে করি, দুই দলেরই এখানে হাই স্টেক আছে।"

১৫ই মে'র সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য খুলনায় প্রচারণা এখন তুঙ্গে। আওয়ামী লীগ,বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি তাদের শরিক দলগুলো এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলোও প্রচারণা চালাচ্ছে।

এমনকি দুই দলের সমর্থক সাংবাদিক ফোরামের নেতারাও মেয়র প্রার্থী দুই জনের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

খুলনা থেকে সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলছিলেন, মেয়র প্রার্থী পাঁচজন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দু'জনের প্রচারণায় দুই দল সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

তিনি বলছেন, প্রচারণায় বিএনপি জাতীয় ইস্যুগুলোকে সামনে আনছে।বিশেষ করে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার জেলে থাকার বিষয়টি তারা তুলছেন ভোটারের সহানুভূতি পেতে।

বিএনপি'র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর গণসংযোগ
ছবির ক্যাপশান, বিএনপি'র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর গণসংযোগ

বিএনপি অবশ্য বলছে, তারা তাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচন করছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন- জাতীয় নির্বাচনের আগে খুলনার নির্বাচনের রাজনৈতিক মূল্য বিবেচনায় নিয়ে তারা এতে অংশ নিয়েছেন।

"গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে, জাতীয় পর্যায়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে নি:সন্দেহে এই নির্বাচনের রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। সেকারণেই আমাদের সিনিয়র নেতারা সেখানে গেছেন।"

গাজীপুরের নির্বাচন আওয়ামী লীগের একজন নেতার আবেদনের কারণে যে স্থগিত হয়েছে।বিএনপি অভিযোগ করেছে, জেতার সম্ভাবনা না থাকায় আওয়ামী লীগ বিষয়টাকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

এখন খুলনার নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, "স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ভাবমূর্তি, তার পারিবারিক প্রভাব এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোই প্রাধান্য পাবে। আমরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার বিষয় নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এর সাথে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতিবাচক দিকগুলোও আমরা তুলে ধরছি।"