ভূমিধসে তিন সন্তানকেই হারালো যে দম্পতি

স্বজন হারানো এক নারীর আহাজারি
ছবির ক্যাপশান, স্বজন হারানো এক নারীর আহাজারি
    • Author, আহ্‌রার হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বান্দরবান শহর থেকে দুতিন কিলোমিটার দূরবর্তী এক পাহাড়ী গ্রাম লিমুভিরি।

টিন আর কাঠ দিয়ে বানানো বাড়িতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছিলেন দিনমজুর স্বপন বড়ুয়া।

স্ত্রী সুমি বড়ুয়া, দুই মেয়ে মিতু ও লতা আর ছেলে শুভ কারোরই চোখে ঘুম নেই।

মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে তিনটের মত বাজে তখন। বাইরে প্রবল বর্ষণ।

হঠাৎ মনে হলো কি যেন একটা উপর থেকে ভেঙে নেমে আসছে।

"বাচ্চাদের বললাম তোমরা এখানে থাকো, আমি আর তোমার মা গিয়ে দেখে আসি কি হয়েছে"।

এই বলে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন স্বপন বড়ুয়া। বের হতে না হতেই দেখেন বিরাট এখন মাটির ঢেলা এসে চাপা দিয়ে দিল তার বাড়িটিকে। সেই সাথে চাপা দিলো দশ বছরের মিতু, আট বছরের লতা আর ছয় বছরের শুভকে।

স্বপন ও তার স্ত্রীও কিসের যেন আঘাতে ছিটকে গিয়ে জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরে স্ত্রীকে উদ্ধার করেন তিনি।

কিন্তু সন্তানদের আর কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন।

সকাল নাগাদ যখন উদ্ধারকারীদের সাহায্যে যখন তিন জনকে খুঁড়ে বের করা হয় তখন আর তাদের ছোট্ট দেহে প্রাণ নেই।

স্বপন বড়ুয়া এসব কথা বলছিলেন বান্দরবানের হাসপাতাল বিছানায় শুয়ে।

হাতে, পায়ে, বুকের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তার স্ত্রীও আহত। তিনিও একই হাসপাতালে ভর্তি।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে অবশ্য সবচাইতে কম হতাহত হবার ঘটনা ঘটেছে।

এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন নিহত হবার খবর আছে এই জেলায়।

এর মধ্যে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্জীব কুমার রায় বলছেন, এখন পর্যন্ত জেলায় আটটি আশ্রয়েকন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আড়াই হাজারের মতো মানুষ সেখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন কর্মীরা
ছবির ক্যাপশান, উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন কর্মীরা