ব্রিটিশ সরকারে পদ পেলেন রুশনারা আলী ও টিউলিপ সিদ্দিক

রুশনারা আলী ও টিউলিপ সিদ্দিক
ছবির ক্যাপশান, রুশনারা আলী ও টিউলিপ সিদ্দিক
Published

ব্রিটেনে সদ্য ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টির সরকারে জায়গা পেলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী ও টিউলিপ সিদ্দিক।

দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে রুশনারা আলী এবার পঞ্চমবারের মতো আর টিউলিপ সিদ্দিক চতুর্থবারের মতো লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন।

তারা ছাড়াও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আফসানা বেগম ও রূপা হকও এবার একই দলের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর স্যার কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে লেবার পার্টি। ইতোমধ্যে মি. স্টারমার তার মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন।

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির চরম ভরাডুবি হয়েছে এবং ৪১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছেন মি.স্টারমারের দল।

সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিলো পার্লামেন্টের ৩২৬ আসন।

শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ সরকারে পদ পেয়েছেন
ছবির ক্যাপশান, শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ সরকারে পদ পেয়েছেন

কী পদ পেলেন রুশনারা ও টিউলিপ

যুক্তরাজ্যের হাউজিং, কমিউনিটিস অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্ট মিনিস্ট্রি (আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়)’র পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অফ স্টেট পদ পেয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী।

তিনি পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীন অ্যান্ড বো আসন থেকে ২০১০ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই আসনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে একবার ছাড়া সবসময় লেবার পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসছিলো। এখন তার আসনের নাম বেথানল গ্রীন অ্যান্ড স্টেফনি।

মিজ আলী এবার নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হলেন। ২০১০ সাল থেকেই তিনি বিরোধী দল লেবার পার্টির ছায়ামন্ত্রী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।

আরেক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত টিউলিপ সিদ্দিকও এবারের নির্বাচনে জয়লাভের পর ব্রিটিশ সরকারে পদ পেয়েছেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী টিউলিপ সিদ্দিকের পদের নাম পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি (ইকনোমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার)।

সাধারণত অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর থাকে এবং তারই একটির নেতৃত্বে থাকছেন টিউলিপ।

রুশনারা আলী ব্রিটিশ সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট পদ পেয়েছেন
ছবির ক্যাপশান, রুশনারা আলী ব্রিটিশ সরকারের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট পদ পেয়েছেন

২০১৫ সালে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক নির্বাচনে তিনি লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড এন্ড কিলবার্ন আসন থেকে প্রথমবারের মতো জয়ী হয়ে এমপি হয়েছিলেন। তিনি সেবার জিতেছিলেন মাত্র ১১৩৮ ভোটের ব্যবধানে। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি প্রায় পনের হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন।

তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংস কলেজ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন এবং ২০১০ সাল থেকে চার বছর ক্যামডেন কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।

২০১৬ সাল থেকে তিনি লেবার পার্টির হয়ে ছায়া শিক্ষামন্ত্রী, সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের ভাইস চেয়ার, নারী ও সমতা নির্বাচন কমিটির সদস্যের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

লন্ডনে জন্মগ্রহণ করা মিজ সিদ্দিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার কন্যা।

এ দুজন ছাড়াও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রূপা হক ও আফসানা বেগমও পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন এবার।

লেবার পার্টির মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক
ছবির ক্যাপশান, লেবার পার্টির মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক

মিজ হকও এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হলেন পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে। বাংলাদেশের পাবনা জেলায় তার বাবার বাড়ি। তিনি গত কয়েক বছর ধরে লেবার পার্টির শ্যাডো কেবিনেটে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি ও কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা ছাড়াও লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন।

অন্যদিকে আফসানা বেগম এবার দ্বিতীয় বারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হলেন। তিনি বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের পপলার অ্যান্ড লাইমহাউজ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

গাজা যুদ্ধ নিয়ে ভূমিকার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বেশ আলোচনায় এসেছিলেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন তিনি।

ব্রিটেনেই জন্ম নেয়া আফসানা বেগমের পৈত্রিক বাড়ী বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায়। তিনি কুইন মেরি ও সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।