বিএনপির ছেড়ে দেয়া ছয় আসনের ভোট কেমন হলো

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২ আসনের একটি ভোট কেন্দ্র।
ছবির ক্যাপশান, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২ আসনের একটি ভোট কেন্দ্র। শুধু ভোটার ছিলো না।
Published

বিরোধী দল বিএনপির এমপিদের পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের ছয়টি আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিলো দৃশ্যত একেবারেই কম। ছয়টি আসনেরই অনেক কেন্দ্রে দিনভর কর্মকর্তারা ভোটারের জন্য অপেক্ষা করলেও ভোটার উপস্থিতি ছিলো হাতে গোনা কয়েকজন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আসন ছাড়া আর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি।

তবে বগুড়া-৪ আসন ছাড়া বাকী সব আসনেই কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে আওয়ামী লীগ বা তাদের জোটের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিক থেকে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছে বগুড়া ৪ ও ৬, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২, ঠাকুরগাঁও-৩ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ ও ৩ আসনে।

এসব আসনেই ভোট হয়েছে ইভিএম ব্যবহার করে।

তবে ঢাকায় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ছয়টি আসনে উপনির্বাচনের ভোট হলো আজ।
ছবির ক্যাপশান, ছয়টি আসনে উপনির্বাচনের ভোট হলো আজ।

কেন্দ্রগুলোতে ভোটার ছিলো হাতেগোনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংবাদিক রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোট চলাকালে অনেকগুলো কেন্দ্রে গিয়েছেন তিনি যেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট পাওয়া গেলেও ভোটারদের তেমন একটা উপস্থিতি তার চোখে পড়েনি।

“কোনো কোনো কেন্দ্রে দেখেছি ১/২জন ভোটার ভোট দিচ্ছেন বা ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসছেন,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ অর্থাৎ সদর আসনের ভোট চলাকালে সদর উপজেলা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদের পদত্যাগের কারণে এ আসনটি শূন্য হয়েছিলো। এখন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার দলেরই একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

উভয় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব ও বিজিবিকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বগুড়া ৪ ও ৬ আসনেও ইভিএমে ভোট হয়েছে। দুটি আসনের মধ্যে বগুড়া-৬ আসনটি সদর আসন হিসেবে পরিচিত যেখান থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভোট হয়েছে ইভিএমে।
ছবির ক্যাপশান, ভোট হয়েছে ইভিএমে।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তার দলেরই একজন নেতা। এ আসনে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন প্রার্থীর দিক থেকে। যদিও আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে ছয়টি আসনের মধ্যে যে আসনটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে সেটি হলো ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২। বিএনপির এমপি হিসেবে পদত্যাগ করা উকিল আব্দুস সাত্তার এ উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

মি. সাত্তারকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। তবে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবু আসিফ আহমেদ গত কয়েকদিন ধরে ‘নিখোঁজ’ বলে তার দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিলো।

তার স্ত্রী ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচনকে অসুস্থ আখ্যায়িত করে ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে সব কেন্দ্রেই একজনের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিচ্ছে। যদিও নির্বাচনী কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক মাসুক হৃদয় বলছেন, এ আসনের দুটি উপজেলার মধ্যে আশুগঞ্জে তারা ভোটার দেখেননি বললেই চলে আর সরাইলে ভোটার আসলেও সেটি ছিলো সংখ্যায় খুবই কম।

“কোনো কোনো কেন্দ্রে ছবি তোলার জন্যও কাউকে পাইনি আমরা,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।