ঘানায় ফ্যান্টাসি কফিনে করে হয় শেষকৃত্য

Published

ঘানার অধিবাসীরা এমন সব কফিন তৈরি করেন যাতে সেই মৃত ব্যক্তির জীবনযাত্রা, তার স্বপ্ন, আবেগ ও সামাজিক মর্যাদা ফুটে ওঠে। রাজধানী আক্রার দুটো কফিন বানানোর কারখানায় এমন আজব সব কফিনের ছবি তুলেছেন সাংবাদিক ফেলিপ আব্রু এবং হেনরিক হেডলার।

গাড়ির আদলে তৈরি কফিন।
ছবির ক্যাপশান, মৃত ব্যক্তির নামে গাড়ির আদলে তৈরি কফিন। ঘানাবাসী সাধারণ জাকজমক আয়োজনে প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে থাকে। আর এসব কফিন বানাতে এই কাঠমিস্ত্রিরা ব্যাবহার করেন সাধারণ যন্ত্রপাতি।
পেপের আদলে বানানো কফিন।
ছবির ক্যাপশান, পেপের আদলে বানানো কফিন।। মূলত এসব ফ্যান্টাসি কফিন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম রাখা হয়েছে সেথ কেইন কিউইর নাম অনুসারে। বলা হয় তিনিই প্রথম এ ধরণের আজব কফিনের নকশা করেছিলেন।
ঘরের আদলে তৈরি কফিন।
ছবির ক্যাপশান, ঘরের আদলে তৈরি কফিন। সম্প্রতি ঘানায় আবাসন ব্যবসা বেশ প্রসার লাভ করে। এই কফিনটি তেমনই একজন ভূমি মালিকের মৃতদেহ বহনের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
মরিচের আদলে তৈরি কফিন
ছবির ক্যাপশান, মরিচের আদলে তৈরি কফিন। ঘানায় এই লাল মরিচের একটা প্রতীকী অর্থ রয়েছে। এখানে লাল রং এবং এর ঝাল স্বাদ সেই মৃতব্যক্তির জীবিত থাকাকালীন ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে। লাল মরিচ দিয়ে সাধারণ রাগী মানুষ বোঝায়। যাদের সঙ্গে কেউ লাগতে যায়না।
উড়োজাহাজের আদলে তৈরি কফিন।
ছবির ক্যাপশান, উড়োজাহাজের আদলে তৈরি কফিন। ছবির কফিনটি একটি শিশুর লাশ বহনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিমানের প্রতীকী অর্থ হল, এর ভেতরে থাকা শিশুটি যেন পরের জীবনে সফলতার মুখ দেখতে পায়।
মাইক্রোফোনের আদলে কফিন
ছবির ক্যাপশান, এই মাইক্রোফোনের আদলে কফিনটি তৈরি করা হয়েছে স্থানীয় এক সংগীত শিল্পীর শেষকৃত্যের জন্য। মৃতের ওজন ও উচ্চতা বুঝে তৈরি করতে হয় এসব কফিন। তবে অনেক সময় তারা ধারণা থেকেই বা ব্যক্তির ছবি একনজর দেখেই সঠিক মাপের কফিন তৈরি করে ফেলেন।
নানা রঙের কাস্টম মেইড কফিন।
ছবির ক্যাপশান, এসব কাস্টম মেইড কফিন বানাতে সাধারণত এক হাজার ডলারের মতো খরচ হয়। যার ব্যয় বহন করা কৃষক বা দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে যায়। কেননা ঘানায় একজন কৃষকের দৈনিক আয় মাত্র ৩ ডলার। এজন্য অনেকেরই সারা জীবনের সঞ্চয় শেষকৃত্যে খরচ হয়ে যায়। তবে এখন অনেক কমিউনিটি সদস্যরা এই কফিনের নির্মাণ ব্যয় বহন করেন।
রাজা রানী বসানো এটি কোন মৃতদেহবাহী কফিন নয়।
ছবির ক্যাপশান, রাজা রানী বসানো এটি কোন মৃতদেহবাহী কফিন নয়। এটি তৈরি করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শনীর জন্য। গত এক দশক ধরে ২০টির বেশি দেশের অসংখ্যা ক্রেতা ঘানা থেকে এসব ফ্যান্টাসি কফিন বানিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ডেনমার্ক থেকে অনেক শিক্ষার্থী ঘানায় এই কফিন বানানোর কাজ শিখতে আসে।
কফিন তৈরি।
ছবির ক্যাপশান, কফিন কেনার পাশাপাশি মৃতের জন্য নতুন পোশাক সেইসঙ্গে শেষকৃত্যের খাবার/পানীয়ের আয়োজন করতে গিয়ে অনেক খরচ পড়ে যায়। সাধারণত বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এই শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা চলে। বৃহস্পতিবার কফিন সংগ্রহ করা হয়, শুক্রবার লাশ মর্গ থেকে আনা হয়, শনিবার হয় শেষকৃত্য, রোববার গীর্জায় প্রার্থণা হয় এবং সোমবার পুরো আয়োজনে কতো খরচ হল, কতোটা দান করা হল সেগুলোর হিসেব করা হয়।
মার্সেটিজ বেঞ্জ গাড়ির আদলে তৈরি কফিন
ছবির ক্যাপশান, মার্সেটিজ বেঞ্জ গাড়ির আদলে তৈরি এই কফিনটিতে সামাজিক মর্যাদার প্রতিফলন দেখা যায়- এই কফিনটিতে যে ধর্নাঢ্য ব্যক্তির যার লাশ বহন করা হবে, জীবিত থাকাকালীন সেই ব্যক্তির এমনই একটি জার্মান ব্র্যান্ডের গাড়ি ছিল। এই গাড়ির কফিনসহই তাকে করব দেয়ার কথা রয়েছে।