যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করবেন, পাশাপাশি যেসব দেশ ইরানকে সহায়তা করে বা তার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবেন।
ট্রুথ সোশ্যালে বড় হাতের অক্ষরে ট্রাম্প লিখেছেন যে তিনি এখন পর্যন্ত “কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান” শুরু করছেন।
তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি এবং ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশের নামও উল্লেখ করেননি।
এটি এমন এক সময় এলো, যখন সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সংঘাত শুরু করেছিল, তা থেকে কূটনৈতিক বা সামরিক কোনো সমাধানের পথেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের সম্প্রসারণ বলে মনে হচ্ছে।
এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পেন্টাগন যৌথভাবে “অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি” ঘোষণা করে, যার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করে এমন বিদেশি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এর লক্ষ্য ছিল, ইরানের সঙ্গে বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক যোগাযোগ বন্ধ করে দেশটির আয়ের উৎসগুলো ভেঙে দেওয়া। এতে ইরানের রপ্তানি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নৌ অবরোধও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি “অর্থনৈতিক ডি-ডে” শুরু করছেন।
ট্রাম্প বলেন, “যে কোনো দেশ তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে যে কোনো ধরনের সহায়তার সুযোগ দেবে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
দেশগুলো কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, “তেল চোরাচালান, ব্যাংকের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন ব্যবস্থা, আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত কোম্পানি, সবকিছুই এখনই বন্ধ করতে হবে। আপনারা জানেন, আমি কাদের কথা বলছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত গত মঙ্গলবার ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে। এর আগে দেশটি থেকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কথা জানানো হয়েছিল। এরপরই ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে এক্সচেঞ্জ হাউস ও কাগুজে কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করে আসছে।
আমিরাতের সিদ্ধান্তের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা না করার সতর্কবার্তা দেয়। তারা বলে, মার্কিন বাহিনীকে দেওয়া যে কোনো সহায়তাকেই সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।