আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
চট্টগ্রামে জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে অন্তত আট জনের মৃত্যু
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পুরোনো জাহাজ ভাঙার পর স্টিল রিসাইকেল করে বিক্রিও করা হয় বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বিবিসি বাংলাকে আট জন শ্রমিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, "জাহাজ কাটছে, তখন গ্যাস লিকেজ হয়ে মারা গেছে।"
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই ঘটনায় তিন-চারজন আহত হয়েছে এবং নিখোঁজ আছে অন্তুত পাঁচজন।
নিহতরা সবাই ওই কারখানার শ্রমিক বলেও জানান ইউএনও।
তিনি উল্লেখ করেন, যেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হয়েছে, সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং লিকেজ থামানোর জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
কী ঘটেছিল
চট্টগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক নয়ন বড়ুয়া জয় বলেন, "এটি হলো জাহাজভাঙা কারখানা। জাহাজ কাটে এখানে। জাহাজে সিলিন্ডার ছিল। সিলিন্ডারের পাশে একটি ট্যাংক ছিল।"
ওই ট্যাংক কাটতে গিয়ে ওখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
"কোনো বিস্ফোরণ হয়নি। বিষক্রিয়াতেই সবাই মারা গেছে," বলছিলেন তিনি।
জানা গেছে, নিহতদের মাঝে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। বাকিদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পরে তারাও মারা যান।
এদিকে, এ দিন দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, তারা ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে খবর পান। তারপর ফায়ার সার্ভিসের দু'টো ইউনিট অ্যাম্বুলেন্সসহ আসে। ফায়ার সার্ভিস এসে প্রথম তিনজনকে নিহত অবস্থায় পায় এবং আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
"এটা একটি এলএনজি বেজড পুরাতন জাহাজ। কাটিং-এর কাজ চলছিলো। এইসব জাহাজ কাটিং-এর নিয়ম হলো- এটা যেহেতু পুরাতন শিপ ব্রেকার, তাই এটাকে ফ্রি করে (গ্যাসমুক্ত করে) কাটতে হবে। শ্রমিকরা যখন কাটছিলো, তখন এখানে হয় ক্লোরিন অথবা কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস ছিল, যা মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাস। তখন এই গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটছে," বলছিলেন তিনি।
"সাধারণত এইসব জাহাজ কাটিং-এর আগেই ক্লোরিন অথবা কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস যাতে উৎপন্ন না হয়, সে কারণে গাদ ফ্রি করে কাটতে হয়। ফ্রি করে না কাটার কারণেই পাইপে যে গ্যাসগুলো জমে ছিল, ওই গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে," যোগ করেন তিনি।
এদিক, সীতাকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন ঘটনাস্থল থেকে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বিবিসি বাংলাকে বলেন, জোয়ারের পানি নেমে গেলে তার জাহাজটিতে তল্লাশি চালাবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছে
ওই কারখানার একজন শ্রমিক বলেন, তিনি উপরে কাজ করছিলেন।
হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন যে মানুষ ছোটাছুটি করছে।
"গিয়ে দেখি, টাংকির নিচে ছয়জন পড়ে গেছে। আমরা নিঃশ্বাস ফালাইতে পারছিলাম না। চলে আসলাম আমরা। এরপর একটা একটা লাশ আনতেছে ওইখান থেকে," বলছিলেন তিনি।
ওই শ্রমিক আরো অভিযোগ করেন, ওই কারখানায় কোনো অক্সিজেন ও গাড়ির ব্যবস্থা ছিল না।
আরেকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের যেতে দেওয়া হয়নি, "গেট বন্ধ করে দিছে"।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের বলেছেন, যদি নিরাপত্তার ঘাটতি থাকে সেটি তারা পরে তদন্ত করে দেখবেন।
এদিকে, বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে স্থানীয় জেলেদের বরাতে বলা হয়েছে, কারখানাটির ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি।
তাদেরকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে, বলা হয়েছে এতে।