ছবিতে দেখা গেলো ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র

সিবিএস নিউজ সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া একটি তারিখবিহীন ছবিতে কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়ে ইরানি হামলায় ধ্বংস হওয়া বলে দাবি করা একটি গাড়ি দেখা যাচ্ছে।
ছবির ক্যাপশান, তারিখবিহীন একটি ছবিতে কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়ে ইরানি হামলায় ধ্বংস হওয়া বলে দাবি করা একটি গাড়ি দেখা যাচ্ছে
    • Author, কাইলা এপস্টিন
  • Published
  • পড়ার সময়: ৪ মিনিট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস সংগ্রহ করেছে।

সক্রিয় সামরিক সদস্যদের দেওয়া এসব ছবিতে একটি বিচ্ছিন্ন রাডার বিমান, চূর্ণবিচূর্ণ ট্রেইলার এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা যায়।

তারিখবিহীন এসব ছবি সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে তোলা হয়েছে।

সিবিএসের সঙ্গে কথা বলা, তবে নাম প্রকাশ না করা একজন সামরিক সদস্য বলেছেন, "আমাদের ঘাঁটিগুলোতে এটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, যা মার্কিন জনগণের কাছে জানানো হয়নি।আমরা চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি, আর মার খাচ্ছি।"

হোয়াইট হাউস এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।

ছবিগুলোর সত্যতা বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে এগুলো প্রকাশিত হয়েছে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থার একটি প্রতিবেদনের একদিন পর, যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে থাকা শত শত ভবন ও স্থাপনা ইরানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।

একটি ছবিতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি দেখা যায়, যা দুই টুকরো হয়ে গেছে এবং যার লেজের অংশ ধাতব টুকরোর জটলায় পিষ্ট হয়ে গেছে।

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি-এর তারিখবিহীন ছবি
ছবির ক্যাপশান, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি-এর তারিখবিহীন ছবি; ঘাঁটিটি রাজধানী রিয়াদের প্রায় ৬২ মাইল (১০০ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত

ছবিটির তারিখ উল্লেখ করা না থাকলেও, বিবিসি ভেরিফাই এর আগে মার্চ মাসে একই ধরনের একটি ছবি যাচাই করেছিল, যা দৃশ্যত একই রাডারবাহী বিমানকে দেখায়।

বোয়িং ই-থ্রি অ্যাওয়াকস বিমানগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু দীর্ঘ দূরত্ব থেকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে ব্যবহৃত হয়, যাতে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়া যায়।

সেই সময় একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি হামলায় ১২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।

কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিং থেকে পাওয়া বলে উল্লেখ করা তারিখবিহীন দুইটি ছবিতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেইলার এবং একটি বড় তাঁবুসদৃশ স্থাপনা দেখা যায়, যা সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তেও দেখা যায়।

কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন। তারিখবিহীন।
ছবির ক্যাপশান, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানের এই ছবিতে একটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে
তারিখবিহীন এই ছবিতে কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং-এ ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থাপনা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, তারিখবিহীন এই ছবিতে কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং-এ ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থাপনা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে

কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে ইরানের একটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত চারতলা একটি ভবনের চিত্রও আরেকটি ছবিতে দেখা যায়।

মার্চ মাসে ওই স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সংক্রান্ত সরঞ্জামের ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এই ছবিটি একই হামলার সময়ের কি না, তা স্পষ্ট নয়।

কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানের একটি ছবিতে একটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে।
ছবির ক্যাপশান, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানের এই ছবিতে একটি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ছবিগুলো প্রকাশিত হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনের পরপরই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলায় "কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে"।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরঞ্জামগত ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭০ কোটি ডলার (২ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯শে জুন পর্যন্ত যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ছিল ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৩৪০ ডলার (২৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড)।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের মাসগুলোতে "যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে"- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নথিতে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, যা "সৌদি আরবে ইরানি গোলাবারুদের আঘাতে মাটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে"।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর জনসাধারণ ও রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বারবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, মিত্র রাষ্ট্রগুলো এবং ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো ইরানের যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে ভোট দেয় এবং এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করবে।

কয়েকজন রিপাবলিকানের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হয়। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই সম্ভবত প্রতিনিধি পরিষদে এ ধরনের শেষ ভোট।