পত্রিকা: 'নিরাপত্তা চৌহদ্দি, তবুও অপরাধ বাড়ছে গুলশানে'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে পুলিশের নিজস্ব রিপোর্টের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনে জ্বালানির দাম বাড়া এবং বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

মানবজমিন পত্রিকার খবর - নিরাপত্তা চৌহদ্দি, তবুও অপরাধ বাড়ছে গুলশানে। এ খবরে বলা হয়েছে, বিদেশি দূতাবাস, করপোরেট অফিস, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বসবাস, বিলাসবহুল হোটেলসহ বিভিন্ন কারণে রাজধানীর গুলশান এলাকা বাড়তি নিরাপত্তা বলয়ে।

পুলিশের টহল, চেকপোস্ট, সিসি ক্যামেরা, এসআরবি, গোয়েন্দা পুলিশসহ পুরো গুলশান এলাকার নজরদারিতে কাজ করে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী একাধিক বাহিনী।

তবে এত নিরাপত্তার মধ্যেও এলাকাটিতে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেই চলেছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের বিপুল নেতাকর্মীর সংঘবদ্ধ মিছিল, একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ছাড়াও ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা গুলশানের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ঢাক মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপি'র তথ্য বলছে, ঢাকার অন্যান্য এলাকার মতো গুলশান বিভাগও অপরাধ প্রবণতার বাইরে নয়।

ডিএমপি'র তালিকায় থাকা রাজধানীর ১ হাজার ২৮০ জন চাঁদাবাজের তালিকায় থাকা অনেক সশস্ত্র অপরাধী গুলশান এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

তাদের ছত্রছায়াতেই গুলশান-১ ও গুলশান-২ এলাকায় কয়েকটি অপরাধী গোষ্ঠী তৎপরতা চালাচ্ছে।

এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাথের দোকান, বাজার, ইন্টারনেট-ক্যাবল ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করছে এই চক্রের সদস্যরা।

গুলশানের ব্যস্ত প্রধান সড়কের পাশাপাশি আবাসিক এলাকার অপেক্ষাকৃত নির্জন সড়ক ও গলিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সমকালের শীর্ষ খবর- খুন-ধর্ষণ বেশি ওয়ারীতে, চুরি গুলশান-উত্তরায়। খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর ৫০ থানায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে ১০ হাজার ৯০৫টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩০ হাজার ১৭০ জন।

মামলার সংখ্যায় এগিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগ, যেখানে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৯৬টি।

খুন ও ধর্ষণের ঘটনা এই এলাকায় রাজধানীর অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি।

ছিনতাই এবং শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনাও বেশি ঘটেছে এই বিভাগে।

খুন এবং নারী-শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিরপুর বিভাগ, আর খুনের ঘটনায় তৃতীয় স্থানে তেজগাঁও।

ঢাকায় পুলিশের আটটি বিভাগের মধ্যে চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি গুলশানে, সেখানে চুরির মামলা ১৬৮টি।

এরপর রয়েছে উত্তরা (১৬৩টি) ও মতিঝিল বিভাগ। ওয়ারী বিভাগ ছয়টি থানা নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, ওয়ারী, শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া ও কদমতলী রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়ারী ও মিরপুর বিভাগের এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ এবং এখানে অনেক ভাসমান অপরাধীর বাস। তারা অপরাধ করে দ্রুত আত্মগোপনে চলে যেতে পারে।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর - Homes take another hit অর্থাৎ সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে গৃহস্থালির খরচে আরেকদফা আঘাত।

পরিবহন জ্বালানির দাম বাড়ানোর দুই সপ্তাহের মধ্যে আবারও বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

তবে বাজারে নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর ১০ জন বিক্রেতার মধ্যে আটজন জানিয়েছেন, ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের পর তারা কোনো সিলিন্ডার পাননি। যেসব দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

একটি দোকানে যমুনার ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ টাকা এবং অন্যটিতে ইউনাইটেড আয়গাজ ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তাদের সর্বোচ্চ ৪১৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরও নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার বিপরীতে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

এর মধ্যেই ২১ সেপ্টেম্বর পরিবহন জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারগুলোর ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রথম আলো পত্রিকার খবর - রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ল, এখন সরবরাহ বাড়বে। খবরে বলা হয়েছে, দেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার।

এর মধ্যেই গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়তে পারে বাজারে।

গতকাল নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। যদিও বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।

এলপিজি খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন।

এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। বাকি ব্যবহৃত হয় শিল্প ও পরিবহনে। ৯৯ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি খাত।

গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি তেমন কমেনি। অথচ বাজারে সরবরাহ কমেছে।

কালের কণ্ঠ পত্রিকার খবর - পাঠদানে প্রশিক্ষণবিহীন আড়াই লাখ শিক্ষক। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেক শিক্ষকই শিক্ষকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন।

বর্তমানে সরকারি বেতন ও ভাতা পাওয়া বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক কোনো ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের তিন লাখ চার হাজার ৬৪৬ শিক্ষকের মধ্যে প্রশিক্ষণ রয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশের।

অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষকই প্রশিক্ষণবিহীন। পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত।

মাদরাসা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষিত ছিলেন।

২০২৪ সালে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ছিল মাত্র ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক লাখ ১০ হাজার ১৫১ শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের প্রশিক্ষণ নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাটারি রিকশার আকর্ষণ আয় ও কাজের স্বাধীনতায়। বাসের চাকরিতে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম বা আয়ের নিশ্চয়তা নেই।

রিকশায় কাজের সময় অনেকটাই নিজের হাতে। পুরো দিন চালালে গড়ে প্রায় ২ হাজার এবং অর্ধদিবসে প্রায় ১ হাজার টাকা আয় সম্ভব।

ঢাকার সড়কে টানা ১৫-১৬ ঘণ্টা বাস চালিয়ে কিংবা সহকারীর কাজ করে দিনে ১ হাজার টাকা আয় করা কঠিন অনেক চালক ও সহকারীর জন্য।

অথচ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে একই ব্যক্তি দিনে দেড়-দুই হাজার টাকা বা তারও বেশি আয় করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

নগদ টাকা প্রতিদিন হাতে পাওয়া, নিজের সুবিধামতো কাজের সময় আর বেশি আয়ের হাতছানিতে তারা অনেকেই পেশা বদলাচ্ছেন।

ফলে চালক-সহকারীর সংকটে রাস্তায় বাস নামাতে পারছেন না অনেক মালিক। যেগুলো চলছে সেগুলোর জন্যও কর্মী জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দেশের অন্তত এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে পদ হারাবেন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা। তাদের স্থলে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১৪৪ জন প্রশাসক ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তাদের কেউ সরকারি কর্মকর্তা আবার কেউ সরকারদলীয় নেতাকর্মী। যদিও স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাচন থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে আরেকটি ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হওয়ায় দেশের তৃণমূল মানুষের নাগরিক সেবা দেওয়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাচ্ছে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে।

তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে বলা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে সব ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নিউ এইজ পত্রিকার খবর - 4 journalists among 10 injured in RU attack অর্থাৎ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় ৪ সাংবাদিকমহ আহত ১০।

খবরে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোববার রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে চারজন সাংবাদিক। তারা হলেন আগামীর সময়ের জিহাদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ২৪ ডটকমের আরিফুজ্জামান কুরবান ও সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু।

তাদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মাথায় আঘাত পাওয়ায় জিহাদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কাছে মিছিল নিয়ে আসেন।

তাদের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাট ছিল। সাংবাদিকরা এসব অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও করতে গেলে কয়েকজনকে মারধর করা হয় এবং এক সাংবাদিকের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পরে আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য হলে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশও ভয়ে সরে যায়।

ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়া দিগন্ত পত্রিকার খবর - স্থিতির মধ্যেও স্থবির উন্নয়ন। খবরে বলা হয়েছে, দেশে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ নেই। রাজপথে নেই হরতাল, অবরোধ কিংবা আন্দোলনের তাণ্ডব। স্বাভাবিক ছন্দে চলছে কর্মদিবস।

কিন্তু রাজনীতির এই স্থিতিশীলতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে।

নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস পার হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চাকা যেন ঘুরতেই চাইছে না।

জুলাই-আগস্ট- অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে মাত্র ১.৮৫ শতাংশে।

ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

গত পাঁচ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ তিন অর্থবছরের তুলনায়ও বর্তমান বাস্তবায়ন হার প্রায় অর্ধেক বা তারও কম।

ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়াতে বলেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ এবং দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

টাইমস অফ বাংলাদেশের খবর- Local govt creaks, citizens pay অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় সেবায় ভোগান্তি।

স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়নে নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি বাড়ছে।

আগে যে কাজ কয়েক ঘণ্টা বা এক দিনে শেষ হতো, তা এখন অনেক ক্ষেত্রে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঝুলে থাকছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল চৌধুরী এক মাস চেষ্টা করেও একই নামের আরেক ব্যক্তির কারণে নাগরিকত্ব সনদ সংশোধন করতে পারেননি।

একইভাবে রাজশাহীর কেশরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রায়হান আলী প্রায় দেড় মাস ধরে বাবার ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ঘুরছেন, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর ও কমিশনারদের দায়িত্ব পালন করছেন।

এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রয়োজন সম্পর্কে কর্মকর্তাদের ধারণা না থাকায় সেবা পেতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার এবং প্রশাসকনির্ভর ব্যবস্থা সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।